Breaking News

কবিতার উর্বর ভূমিতে এক কবিতা সন্ধ্যে

মামুন রণবীর

৪ জানুয়ারী সকালটা শুরু হয় কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে। এরপর বেলা যতোই গড়িয়েছে প্রকৃতিতে রোদের ঝলমলে উপস্থিতি বেড়েছে। দুপুরের পর ব্যস্ততা একটু বেড়েছে,একটা বিশেষ উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করে।ব্যস্ততাকে গায়ে মেখে বিকেলে টংক স্মৃতি স্তম্ভ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হওয়া। এখানে আসামাত্র কয়েকজন কবির সঙ্গে দেখা,আলাপনে মুখর হওয়া। মিনিট বিশেকের মধ্যে কবির সংখ্যা বেড়ে ১৫। মনে হলো আজ বিকেলটা কবিতার,সন্ধ্যেটা কবিতার। সুসঙ্গ সাহিত্য পরিষদ কতৃক আয়োজিত এক চমৎকার কবিতাসন্ধ্যের মঞ্চে মুখরিত হবার আগের মুহূর্তগুলো এমনই। কমরেড মণি সিংহ মেলার ৫ম দিনে কবিতা নিয়ে এমন আয়োজন সবাইকে দিয়েছে একরাশ সজীব অনুভূতি । যার মূল কান্ডারী সাপ্তাহিক পত্রিকা সুসঙ্গ বার্তার সম্পাদক জামাল তালুকদার।তিনি কবিদের একত্র করতে পেরেছেন। তাদের একত্র করার কাজটা একটু জটিল। কেননা কবিরা অন্যদের চেয়ে অনেক আলাদা। অবশ্য কাব্য চর্চার ক্ষেত্রে সুসঙ্গের ইতিহাসটা আগে থেকেই বেশ সমৃদ্ধ। এখানে যখন আর্যপ্রভা কিংবা আর্যপ্রদীপ পত্রিকা বের হতো তখনই একটা বার্তা পাওয়া গিয়েছিল,বার্তাটি পেয়েছিলেন তখনকার বোদ্ধামহল। পরবর্তীতে গবেষকরা খুঁজে বের করেছেন এই বিষয়টি। ইতিহাস পাঠ করতে গিয়ে যা আমরা জানতে পেরেছি। সেই বার্তাটি হলো এক প্রাচুর্যভরা সাহিত্যের প্রাঙ্গণ ছিল তৎকালীন সুসঙ্গ পরগণা। পরবর্তীতে নানা উত্থান,পতন এবং বৈচিত্রময় ঘটনার মধ্য দিয়ে এই জনপদের যাত্রা সামনের দিকে এগিয়েছে। অনেক ঘটনার মধ্যে সুসঙ্গবাসী কবিতার চর্চা ভোলেনি,কবিতাকে অন্তরে স্থান দিতে ভোলেনি, কবিতাকে ছড়িয়ে দিতে ভোলেনি। তাইতো সোশ্যাল মিডিয়ার এই সময়ে কবিতা ছড়িয়ে যায় সুসঙ্গ থেকে সারা দেশে। দেশের কবি,বিদেশের কবিরা এখানে আসেন,কবিতা পড়েন,কবিতা শোনেন। সুসঙ্গে অনেক কিছুই আছে। পাহাড়,নদী, চমৎকার প্রকৃতি বা বৈচিত্রময় সংস্কৃতি। আবার অনেক কিছুর অপ্রতুলতা আছে। অনেক থাকা না থাকার মাঝে এখানকার নাগরিকদের মধ্যে কবিতার যে বোধটি আছে তা অন্য সব প্রাচুর্যকে ছাড়িয়ে যায়। ইতিহাসে সুসঙ্গকে স্থান দেয় এক নান্দনিক চ্যাপ্টারে। তাই হয়তো এই জনপদ কবিতার মতোই সুন্দর,মানুষগুলো কবিতার মতোই মিশুক। এই কথাগুলো আবারো সত্য প্রমাণ করলেন সেই কবিরা,যাদের বসবাস সুসঙ্গ দূর্গাপুরে। আজকের কবিতা সন্ধ্যে মাতিয়েছেন তারা। লোকান্ত শাওন,দুনিয়া মামুন,ফজলুল হক, স্বাধীন আসাদ, নাজমুল হক পথিক, অনিন্দ্য জসিমসহ আমন্ত্রিত অন্য কবিরা নিজ শৈলী অনুসরণ করেছেন কবিতা পাঠের মিছিলে। যারা প্রত্যেকেই কবিতার এই আয়োজনকে নিয়ে গেছেন অন্য এক মাত্রায়। এই আয়োজনে আমি পাঠ করেছি সুসঙ্গ দূর্গাপুরের নানা প্রাচুর্যতা সম্পর্কিত কবিতা সংযোগ। কবিতা পাঠের মঞ্চে আরো অনেক বিষয় ছিল। কবিদের কথায় উঠে এসেছে এখানকার সাহিত্য সংস্কৃতি বোধ,কাজ এবং প্রতিনিয়ত প্রতিভাদের সামনে এগিয়ে দেয়ার প্রত্যয়। কবিতার এই অনুষ্ঠান একটা সময় শেষ হয়। তবে কবিদের আড্ডা চলে আরো কিছুক্ষণ,আরো কিছু কথা বাতাসে ভাসে,আরো কিছু ভাবনা নিয়ে কবিরা মুখরতায় রাঙান একে অন্যকে। চা পান করতে করতে কথা যেন থামেই না। থামবেই বা কেন? এটা সুসঙ্গ দূর্গাপুর, কবিতার উর্বর ভূমি!

Website Design Company in Dhaka, Web page design company in uttara, website design company in uttara

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top